Hermitage of Management & Standards Limited

ISO Consultancy Company In BD

বাংলাদেশে হালাল সার্টিফিকেশন কিভাবে পাবেন - HMS Limited

বাংলাদেশে হালাল সার্টিফিকেশন কিভাবে পাবেন – HMS Limited

বর্তমান ব্যবসার জন্য বাজারে শুধু ভালো পণ্য থাকলেই হয় না। মানুষের আস্থা ও বিশ্বাসও থাকা জরুরি। আর এই বিশ্বাস তৈরি করতে হালাল সার্টিফিকেট খুব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

হালাল সার্টিফিকেশন নিশ্চিত করে যে আপনার পণ্য উৎপাদন, প্রক্রিয়াকরণ এবং বিতরণ সবই ইসলামী শরিয়া অনুযায়ী হচ্ছে। এতে মুসলিম ভোক্তারা নিরাপদ ও নির্ভরযোগ্য পণ্য পায়।

বিশ্বের হালাল বাজার এখন তিন ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি। খাদ্য, ফার্মা, কসমেটিক্সসহ সব খাতে এর চাহিদা বাড়ছে। বাংলাদেশেও এর গুরুত্ব অনেক। যেমন রপ্তানিতে নতুন সুযোগ তৈরি করে, দেশীয় বাজারে আস্থা বাড়ে এবং বিক্রি ও ব্র্যান্ড ভ্যালু বৃদ্ধি পায়।

এই বল্গে আপনি জানবেন হালাল সার্টিফিকেট কেন দরকার, কোন কোন প্রতিষ্টান হালাল সার্টিফিকেট দেয়, সার্টিফিকেটশনের জন্য কী কী কাগজপত্রের দরকার হয়, প্রক্রিয়া কেমন, খরচ কত এবং নবায়ন কীভাবে করতে হয়।

হালাল সার্টিফিকেশন কেন প্রয়োজন?

হালাল সার্টিফিকেশন আজকের ব্যবসার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিশেষ করে খাদ্য, কসমেটিকস, ও লাইফস্টাইল পণ্যে হালাল সার্টিফিকেশন  খুবই প্রয়োজন। এটি শুধু ধর্মীয় বিষয় না। এটি এখন ব্যবসার একটি বড় অংশ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

হালাল সনদ থাকলে আপনি সহজে নতুন বাজারে ঢুকতে পারবেন। বিশেষ করে মুসলিম দেশগুলোতে। এটি ভোক্তাদের আস্থা বাড়ায়। হালাল সার্টিফিকেশন থাকলে মানুষ পণ্যের উপর বিশ্বাস পায়।

আর যদি এই সনদ না থাকে, তখন ঝুঁকিও থাকে। বাজার হারানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়। আইনি সমস্যাও হতে পারে।

রপ্তানিকারকদের জন্য

রপ্তানিকারকদের জন্য হালাল সার্টিফিকেশন অনেক সময় বাধ্যতামূলক। তুরস্ক, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, সৌদি আরব এই দেশগুলোতে হালাল সনদ ছাড়া পণ্য ঢোকানো কঠিন। বিদেশি ক্রেতারা আন্তর্জাতিক মানের সনদ চায়।

এই সনদ থাকলে বাজারে প্রবেশ সহজ হয়। ক্রেতারা দ্রুত বিশ্বাস করে। এটি ব্যবসায় লাভ বাড়াতে সাহায্য করে।বাংলাদেশ বছরে প্রায় পঁচাশি কোটি ডলারের হালাল পণ্য রপ্তানি করে। বাষট্টিটি প্রতিষ্ঠান দুইশোর বেশি পণ্য রপ্তানি করছে। যেমন প্যাকেটজাত খাদ্য ও প্রক্রিয়াজাত মাংস।

দেশীয় বাজারের জন্য

বাংলাদেশের নব্বই শতাংশের বেশি মানুষ মুসলিম। তাই হালাল পণ্যের চাহিদা বেশি। হালাল সার্টিফিকেশন থাকলে মানুষ নিশ্চিন্তে পণ্য কেনে।

এটি পণ্যের গুণমান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। বিক্রি বিশ থেকে ত্রিশ শতাংশ পর্যন্ত বাড়িয়ে দেয়। বাজারে প্রতিযোগিতায় এগিয়ে রাখে। ইসলামিক ফাউন্ডেশন ইতিমধ্যে একশ বিরানব্বইয়ের বেশি প্রতিষ্ঠানকে সনদ দিয়েছে। খাদ্য, ওষুধ, প্রসাধনী সবখানেই এর ব্যবহার আছে।

মজার বিষয় হলো, অমুসলিম ভোক্তারাও গুণমানের জন্য এটি পছন্দ করে। এই সনদ থাকলে বাজারজাত করা সহজ হয়।

না থাকলে কী কী ঝুঁকি থাকে?

হালাল সনদ না থাকলে অনেক সমস্যা হতে পারে। যেমন- রপ্তানিতে অনেক দেশ পণ্য নিতে অস্বীকার করতে পারে। রপ্তানিতে পণ্য বাতিল হতে পারে। কাস্টমস ক্লিয়ারেন্সে সমস্যা হয়। কিছু ক্ষেত্রে আইনি নিষেধাজ্ঞাও আসতে পারে।

খাদ্য নিরাপত্তা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠতে পারে। দেশীয় বাজারেও সমস্যা হয়। ভোক্তারা সন্দেহ করে। বিক্রি কমে যায়।

সবচেয়ে বড় ক্ষতি হয় ব্র্যান্ডের বিশ্বাসযোগ্যতায়।  বিশ্বাসযোগ্যতা কমে যায়। ব্র্যান্ড দুর্বল হয়। লজিস্টিকস ও শুল্ক জটিলতা বাড়ে। তাই, হালাল সার্টিফিকেশন এখন শুধু অপশন নয় প্রয়োজন।

বাংলাদেশে হালাল সার্টিফিকেট কে দেয়?

বাংলাদেশে হালাল সার্টিফিকেট প্রধানত দেয় বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন (BIF)। এটি সরকারের একমাত্র অফিসিয়াল অথরিটি। এর পাশাপাশি বিএসটিআই (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) ও হালাল সার্টিফিকেট দিয়ে থাকে।

ইসলামিক ফাউন্ডেশনের হালাল সনদ বিভাগ পণ্যের শরিয়া সম্মততা যাচাই করে। তারা খাদ্য, ভোগ্যপণ্য, ওষুধ এবং প্রসাধনীর জন্য সনদ দেয়। এখন পর্যন্ত একশো বিরানব্বইয়ের বেশি প্রতিষ্ঠান সনদ পেয়েছে। এর মধ্যে বাষট্টিটি রপ্তানিকারক। 

BSTI (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন) ২০২১ সাল থেকে হালাল সার্টিফিকেট দিচ্ছে। তারা খাদ্য ও প্রসাধনী পণ্যে ফোকাস। চুরাশি এর বেশি পণ্য ইতিমধ্যে সনদপ্রাপ্ত

তবে একটি বিষয় গুরুত্বপূর্ণ হল আন্তর্জাতিকভাবে BIF-এর স্বীকৃতি বেশি। BSTI-এর স্বীকৃতি এখনো সীমিত। 

HMS Limited-এর মতো কনসালটেন্সি আবেদন প্রক্রিয়া সহজ করে। আমরা গাইড করি এবং হালাল সার্টিফেকেশন পেতে ডকুমেন্ট প্রস্তুত করে দেই।

হালাল সার্টিফিকেশনের জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

বাংলাদেশে হালাল সার্টিফিকেট পেতে হলে নির্দিষ্ট কিছু কাগজপত্র জমা দিতে হয়। এটি নির্ভর করে আপনি BIF নাকি BSTI তে আবেদন করছেন তার উপর। BIF-এ মূলত ব্যবসা ও পণ্যের তথ্য লাগে। অপরদিকে BSTI-তে এর সাথে কোয়ালিটি ও ল্যাব সম্পর্কিত ডকুমেন্ট অতিরিক্ত লাগে। 

ইসলামিক ফাউন্ডেশন (BIF) আবেদনে লাগবে

BIF-এ আবেদন করতে নিচের কাগজগুলো দরকার:

  • আপডেটেড ট্রেড লাইসেন্স
  • ইনকাম ট্যাক্স / ই-টিন সার্টিফিকেট
  • ট্রেডমার্ক রেজিস্ট্রেশন
  • প্রোডাক্ট লেবেল (ব্র্যান্ড, SKU, ভ্যারিয়েন্ট)
  • উপাদানের তালিকা এবং আমদানিকৃত হলে তার হালাল সনদ
  • উৎপাদন প্রক্রিয়ার ফ্লোচার্ট
  • কোম্পানির বিবরণ এবং সাইট ইন্সপেকশন প্রস্তুতি

বিএসটিআই (BSTI) আবেদনে অতিরিক্ত লাগবে

BSTI তে BIF এর কাগজের সাথে আরও কিছু ডকুমেন্ট লাগে:

  • BIDA / SME / BSCIC রেজিস্ট্রেশন
  • প্রেমিসেস লাইসেন্স, ফায়ার লাইসেন্স, এনভায়রনমেন্ট ক্লিয়ারেন্স
  • উৎপাদন যন্ত্রপাতির তালিকা
  • ল্যাব যন্ত্রপাতির তালিকা
  • কোয়ালিটি / হালাল কন্ট্রোল প্ল্যান
  • আমদানিকৃত উপাদানের হালাল সার্টিফিকেট বা অ্যানালাইসিস রিপোর্ট

ধাপে ধাপে হালাল সার্টিফিকেট পাওয়ার প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে হালাল সার্টিফিকেট পেতে সাধারণত ৩০ থেকে ৯০ দিন সময় লাগে। এই সময়ের মধ্যে ডকুমেন্ট যাচাই, ফ্যাক্টরি ভিজিট এবং পণ্য টেস্টিং করা হয়। BIF শরিয়া অনুযায়ী যাচাই করে। আর BSTI মান ও নিরাপত্তা ফোকাস করে তথ্য যাচাই করে। 

ইসলামিক ফাউন্ডেশন (BIF) এর প্রক্রিয়া

BIF-এর হালাল সনদ প্রক্রিয়া শরিয়া ভিত্তিক যাচাইয়ের উপর নির্ভর করে। ধাপগুলো হলো:

  1. নির্ধারিত ফর্ম, ট্রেড লাইসেন্স, ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্ট, প্রসেস ফ্লোচার্ট জমা দিতে হয়। 
  2. হালাল কমিটি পণ্যের উপাদান, উৎস এবং উৎপাদন প্রক্রিয়ার ডকুমেন্ট যাচাই করবে। 
  3. বিশেষজ্ঞ দল ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করে শরিয়া সম্মততা যাচাই করবে। 
  4. প্রয়োজনে পণ্যও ল্যাবে পাঠিয়ে পরীক্ষা করা হয়, হারাম উপাদান আছে কি না নিশ্চিত হওয়ার জন্য। 
  5. অনুমোদনের পর ১ বছরের জন্য সার্টিফিকেট দেওয়া হয় এবং নিয়মিত পরিদর্শন করে। 

বিএসটিআই (BSTI) এর প্রক্রিয়া

BSTI-এর প্রক্রিয়া মান ও নিরাপত্তা ভিত্তিক যাচাইয়ের উপর নির্ভর করে:

  1. প্রথমে ফর্ম, BIDA রেজিস্ট্রেশন, ফায়ার লাইসেন্স, কোয়ালিটি প্ল্যানসহ জমা দিতে হয়। 
  2. প্রাথমিক ডকুমেন্ট যাচাই  করা হয় এবং ফি জমা নেওয়া হয়। 
  3. ফ্যাক্টরিতে উৎপাদন যন্ত্রপাতি, হাইজিন এবং মান নিয়ন্ত্রণ পরীক্ষা করা হয়।  
  4. হালাল সনদ কমিটি ল্যাব টেস্ট ও কমিটি সুপারিশ যাচাই করে অনুমোদন দেয়।
  5. সবকিছু ঠিক থাকলে সনদ ইস্যু করা হয়। নিয়ম ভঙ্গ হলে সনদ স্থগিত বা বাতিল হতে পারে।

হালাল সার্টিফিকেশনের জন্য এখনই যোগাযোগা করুন

বিএসটিআই হালাল সার্টিফিকেট ফি

বিএসটিআই হালাল সার্টিফিকেট নিতে কত খরচ হবে, এটি একভাবে নির্দিষ্ট নয়। খরচ নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের আকার, পণ্যের ধরন এবং লাইসেন্সের সময়ের উপর। সাধারণত এই লাইসেন্স ৩ বছরের জন্য দেওয়া হয়। মোট খরচের সাথে ১৫% ভ্যাট যোগ হয়।

বড় প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে খরচ একটু বেশি হয়। আবেদন ফি থাকে প্রায় পনেরো হাজার টাকার সাথে ১৫% ভ্যাট যোগ হয়। লাইসেন্স ফি হয় প্রায় ষাট হাজার টাকা, এখানেও ১৫% ভ্যাট দিতে হয়।

তবে অডিট ফি আলাদা করে ধরা হয়। এটি জনবল অনুযায়ী নির্ধারিত হয়। প্রতি জনের জন্য দৈনিক প্রায় তিন হাজার টাকা খরচ হয়। প্রতিষ্ঠান যত বড় হয়, অডিট খরচ তত বেশি হয়।

আবার ছোট ও মাঝারি প্রতিষ্ঠানের জন্য খরচ তুলনামূলক কম। এখানে আবেদন ফি প্রায় দশ হাজার টাকা, সাথে ১৫% ভ্যাট। লাইসেন্স ফি থাকে প্রায় চল্লিশ হাজার টাকা, এখানেও ১৫% ভ্যাট যোগ হয়। অডিট খরচ একই নিয়মে হয়। প্রতি জনের জন্য দৈনিক তিন হাজার টাকা ধরা হয়।

এছাড়াও কিছু অতিরিক্ত খরচ থাকে। পণ্যের ধরন অনুযায়ী টেস্টিং ফি দশ হাজার থেকে ত্রিশ হাজার টাকার মধ্যে হতে পারে। লাইসেন্স নবায়নের সময়ও ফি দিতে হয়। ছোট শিল্পের জন্য প্রায় এক হাজার টাকা লাগে। আবার মাঝারি শিল্পের জন্য প্রায় তিন হাজার টাকা লাগে। 

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খরচ হলো মার্কিং ফি। এটি বার্ষিক বিক্রির উপর নির্ভর করে। সাধারণত ০.০৭% থেকে ০.১০% পর্যন্ত হয়। এর ন্যূনতম সীমা হল প্রায় এক হাজার দুইশ পঞ্চাশ থেকে তিন হাজার পাঁচশ টাকা। আর সর্বোচ্চ সীমা দশ লাখ থেকে পঁয়ত্রিশ লাখ টাকা পর্যন্ত যেতে পারে। 

BIF বনাম BSTI — কোনটি আপনার জন্য সঠিক?

বাংলাদেশে হালাল সার্টিফিকেট নেওয়ার জন্য দুটি প্রধান প্রতিষ্ঠান আছে BIF (বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন) এবং BSTI (বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন)। দুটোর কাজ এক মনে হলেও আসলে আলাদা। BIF বেশি শরিয়াহ-কেন্দ্রিক। BSTI বেশি মান ও নিরাপত্তা-কেন্দ্রিক। তাই সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আপনার ব্যবসার ধরন, বাজার আর বাজেট ভেবে সিধান্ত নেওয়া উচিত।

BIF মূলত পণ্যের উপাদান, উৎপাদন প্রক্রিয়া আর স্টোরেজ দেখে। তারা নিশ্চিত করে কোনো হারাম উপাদান আছে কি না। ক্রস কনট্যামিনেশন হচ্ছে কি না সেটাও দেখবে।

অপরদিকে BSTI একটু ভিন্নভাবে কাজ করে। তারা শুধু হালাল দেখে না। তারা BS বা ISO স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী গুণমান, হাইজিন আর ল্যাব টেস্টও করে থাকে। তবে প্রক্রিয়াটি একটু বড়। আগে আবেদন করতে হয়। তারপর অডিট হয়। এরপর ল্যাব টেস্ট হয়। 

আন্তর্জাতিক বাজারের ক্ষেত্রে BIF বেশি সুবিধা দেয়। মধ্যপ্রাচ্য, মালয়েশিয়া আর ইন্দোনেশিয়ায় এটি সহজে গ্রহণযোগ্য। তাই বাষট্টিটির বেশি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান দুইশোটির বেশি পণ্য রপ্তানি করছে।

BSTI দেশীয় বাজারে শক্তিশালী। কিন্তু আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি সীমিত। কিছু দেশে সমস্যা হতে পারে। তাই অনেক রপ্তানিকারক BIF বা ডুয়াল সনদ নেয়।

খরচের দিকেও পার্থক্য আছে। BIF কম খরচে করা যায়। এটি সাধারণত ১ বছরের জন্য সনদ দেয়। নবায়নও সহজ। ইতিমধ্যে একশ বিরানব্বইটির বেশি প্রতিষ্ঠান এই সনদ পেয়েছে।

BSTI-এর খরচ বেশি। বড় প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রায় পঁচাত্তর হাজার টাকার বেশি লাগে। ছোট ব্যবসার জন্য প্রায় পঞ্চাশ হাজার টাকার বেশি লাগে। এতে ভ্যাট যুক্ত থাকে। অডিট আর টেস্টিংয়ের জন্য আলাদা খরচ হয়। এটি ৩ বছরের সনদ দেয়। তবে প্রতি বছর মার্কিং ফি দিতে হয়।

BIF-এর বড় সুবিধা হলো কম খরচ আর দ্রুত প্রক্রিয়া। এটি রপ্তানির জন্য ভালো। তবে ল্যাব সুবিধা সীমিত। BSTI-এর সুবিধা হলো মান নিয়ন্ত্রণ আর হালাল একসাথে পাওয়া যায়। দেশে এর উপর আস্থা বেশি। তবে খরচ বেশি। আবার প্রক্রিয়াও জটিল। রপ্তানিতে সীমাবদ্ধতা থাকে।

আপনি যদি রপ্তানিকারক হন, বিশেষ করে খাদ্য বা কসমেটিক্সে, তাহলে BIF করা উচিত। আর যদি শুধু দেশীয় বাজারে কাজ করেন, তাহলে BSTI বেছে নেওয়া উচিত। আর যদি দুই বাজারই ধরতে চান, তাহলে BIF আর BSTI দুটোই নেওয়া ভালো।

হালাল সার্টিফিকেটের মেয়াদ ও নবায়ন প্রক্রিয়া

বাংলাদেশে হালাল সার্টিফিকেট সাধারণত ১ থেকে ৩ বছরের জন্য বৈধ থাকে। তবে এটি নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের ধরন আর নিয়ম ঠিকভাবে মানা হচ্ছে কি না তার উপর।

BIF-এর ক্ষেত্রে মেয়াদ সাধারণত ১ বছর। ২০২৩ সালের নীতিমালা অনুযায়ী ভালোভাবে নিয়ম মেনে থাকলে এটি ২ থেকে ৩ বছর পর্যন্ত বাড়তে পারে। এই সময়ে নিয়মিত ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করা হয়। নবায়নের সময় কিছু ডকুমেন্ট জমা দিতে হয়। পুরোনো সনদ লাগে। যেমন ট্রেড লাইসেন্স ও ইনগ্রেডিয়েন্ট লিস্ট জমা দিতে হয়। তারপর হালাল কমিটি সব কিছু যাচাই করে। সব ঠিক থাকলে নতুন সনদ দেয়।

নবায়ন ফি সাধারণত পাঁচ হাজার থেকে দশ হাজার টাকার মধ্যে হয়। যদি মেয়াদের মধ্যে নিয়ম ভাঙা হয়, তাহলে সনদ স্থগিত বা বাতিল হতে পারে।

অন্যদিকে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন বা BSTI এর সনদ ৩ বছরের জন্য থাকে। তবে প্রতি বছর মার্কিং ফি দিতে হয়। নবায়নের সময় আবেদন ফর্ম জমা দিতে হয়। পুরোনো সনদ আর লাইসেন্সও দিতে হয়। এরপর কোয়ালিটি প্ল্যানসহ ডকুমেন্ট রিভিউ করা হয়। ফ্যাক্টরি পরিদর্শন করা হয়।  ল্যাব টেস্টও করা হয়। সবশেষে কমিটি অনুমোদন দিলে নতুন সনদ ইস্যু করা হয়।

হালাল সার্টিফিকেশনের জন্য এখনই যোগাযোগা করুন

উপসংহার

হালাল সার্টিফিকেট এখন আর শুধু একটি ধর্মীয় বিষয় নয়। এটি একটি শক্তিশালী ব্যবসায়িক  প্রক্রিয়া। এটি আপনার পণ্যের মান নিশ্চিত করে। গ্রাহকের আস্থা বাড়ায়। এবং রপ্তানি বাজারে প্রবেশ সহজ করে।

হালাল সার্টিফিকেটে BIF এবং BST দুটি প্রতিষ্ঠানই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। BIF বেশি শরিয়া-কেন্দ্রিক এবং রপ্তানির জন্য উপযোগী। আবার BSTI বেশি মান ও নিরাপত্তা ভিত্তিক এবং দেশীয় বাজারে শক্তিশালী। আপনার ব্যবসার ধরন অনুযায়ী সঠিক পথ বেছে নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

সাধারণ জিজ্ঞাসা (FAQ)

. বাংলাদেশে হালাল সার্টিফিকেট কে দেয়?

বাংলাদেশে হালাল সার্টিফিকেট প্রধানত দেয় বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশন (BIF)। এছাড়া BSTI কিছু খাদ্য ও প্রসাধনী পণ্যের জন্য সনদ দেয়। কিছু কনসালটেন্সি প্রক্রিয়ায় সহায়তা করে, কিন্তু তারা সরাসরি সনদ দেয় না।

২. হালাল সার্টিফিকেট পেতে কতদিন সময় লাগে?

সাধারণত ৩০ থেকে ৯০ দিন সময় লাগে। এই সময়ে ডকুমেন্ট যাচাই, ফ্যাক্টরি ইন্সপেকশন এবং ল্যাব টেস্ট করা হয়। BIF তুলনামূলক দ্রুত, BSTI একটু বেশি সময় নেয়।

৩. হালাল সার্টিফিকেট কি বাধ্যতামূলক?

সব ব্যবসার জন্য বাধ্যতামূলক নয়। তবে রপ্তানি এবং মুসলিম বাজারের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ। অনেক বিদেশি ক্রেতা হালাল সার্টিফিকেট ছাড়া পণ্য গ্রহণ করে না।

৪. বিএসটিআই হালাল সার্টিফিকেটের মেয়াদ কত বছর?

BSTI হালাল সার্টিফিকেট সাধারণত ৩ বছরের জন্য বৈধ থাকে। তবে প্রতি বছর অডিট এবং মার্কিং ফি দিতে হয়। নিয়ম না মানলে সনদ বাতিল হতে পারে।

৫. শুধু খাদ্য প্রতিষ্ঠানই কি হালাল সনদ নিতে পারে?

না। খাদ্য ছাড়াও প্রসাধনী, ওষুধ এবং কসমেটিক্স পণ্যেও হালাল সনদ নেওয়া যায়। যেসব পণ্যে শরিয়া-সম্মত উপাদান দরকার, সেগুলোতে প্রযোজ্য।

৬. HMS Limited কিভাবে হালাল সার্টিফিকেশনে সাহায্য করে?

HMS Limited আবেদন, ডকুমেন্ট প্রস্তুতি, অডিট প্রস্তুতি এবং গাইডলাইন ফলো করতে সাহায্য করে। তারা প্রক্রিয়াকে সহজ ও দ্রুত করে, তবে সনদ প্রদান করে না।

৭. হালাল সার্টিফিকেট না থাকলে কি সমস্যা হয়?

রপ্তানিতে পণ্য বাতিল হতে পারে। দেশীয় বাজারে আস্থা কমে যায়। বিক্রি কমে এবং ব্র্যান্ড ইমেজ দুর্বল হয়। বড় ক্রেতা পাওয়া কঠিন হয়ে যায়।

. BIF ও BSTI উভয়ের সনদ কি একসাথে নেওয়া যায়?

হ্যাঁ, নেওয়া যায়। অনেক কোম্পানি দুইটাই নেয়। BIF রপ্তানির জন্য ভালো, BSTI দেশীয় বাজারে শক্তিশালী। তবে খরচ ও প্রক্রিয়া বাড়ে।